শিরোপা ছুঁয়েছে মেসির আর্জেন্টিনা

0
74

মোহাম্মদ মাকসুদুল হাসান ভূঁইয়া রাহুলঃ
মারাকানা স্টেডিয়াম। ব্রাজিলের জন্য নিঃসন্দেহে সৌভাগ্যের এক মাঠ বললে ভুল হতো না নিশ্চয়ই! ৭১ টা বছর টানা ২৮ ম্যাচে এই মারাকানার সবুজ গালিচায় পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ নাগাল পায় নি ব্রাজিল ফুটবল দলের! তবে ফুটবল বিধাতার এবারের পরিকল্পনাটা ছিল ভিন্ন! ব্রাজিলীয় বীরত্বের দৃঢ় ইতিহাস ছোঁয়া মাঠেই কিনা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার কাছে এ বছরের কোপা আমেরিকার ফাইনাল হেরে বসলো ব্রাজিল!

ফুটবলের ধ্রুপদী লড়াইগুলোর মধ্যে অন্যতম লাতিন আমেরিকার দু’দেশ ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ম্যাচ। বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবল দর্শকের দৃষ্টি থাকে এই দু’দলের দ্বৈরথে! ১৪ বছর পর আবারো বড় আসরে ফিরেছিল সেই মহারণ, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ফাইনাল! আর তাতে বিজয়ের হাসি হেসেছেন লিওনেল মেসিরা।

মারাকানার মাঠে ৭১ বছর অপরাজেয় ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২৮ বছর পর বড় কোনো আসরের চ্যাম্পিয়ন শিরোপায় স্পর্শ পড়লো ফুটবল জাদুকর মেসি বাহিনীর! সাত দশক ধরে যেই মাঠে পরাজয় ছুঁতে পারে নি ব্রাজিলকে, সেই মাঠে তাদেরকে হারিয়ে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ের কাব্যটি মোটা দাগেই লিখা থাকবে ফুটবল ইতিহাসে!

লিওনেল মেসি। সন্দেহাতীতভাবে ফুটবল ইতিহাসের অনন্য এক খেলোয়াড়। ব্যক্তিগত অর্জন দিয়ে তাঁর সাফল্যের ভান্ডারটা পরিপূর্ণ থাকলেও, আক্ষেপ ছিল জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো শিরোপা না ছোঁয়ার! ফুটবলকে যেই মানুষটি এক অসাধারণ মাত্রা দিয়েছেন, সেই সম্রাটের হাত কি শিরোপাহীন মানায়? নিশ্চয়ই মানায় না! তাই হয়তো সৃষ্টিকর্তা কোপার আজকের ফাইনালের বিশেষ এই মুহূর্ত সাজিয়েছেন, যেখানে লেখা হয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে হারিয়ে শিরোপা উঁচিয়ে ধরা লিওনেল মেসির হাস্যোজ্বল উচ্ছ্বাসের অনবদ্য এক দৃশ্য!

অথচ এই কোপার মঞ্চেই বার বার হতাশ হতে হয়েছিল মেসিকে! ২০১৫ ও ২০১৬-তে পরপর দু’বার শিরোপার একেবারে কাছে গিয়েও তাতে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারে নি ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি আর্জেন্টিনা! লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ২০১৪ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালেও উঠেছিল দলটি। কিন্তু বড় আসরের শিরোপা বন্ধ্যাত্ব কিছুতেই যেনো পিছু ছাড়ছিল না আলবিসেলেস্তেদের!

এবারের কোপা আমেরিকায় শুরু থেকেই ফেভারিট ছিল আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বের খেলাগুলোতে ও নক আউট পর্বে দাপটের সঙ্গেই নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করেছে দলটি। তবে সেমিফাইনালে কলম্বিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করায় খেলা গড়িয়েছিল টাইব্রেকারে। শিরোপার কাছাকাছি এসে আবারো তা হাতছাড়া হওয়ার ভয় নিশ্চয়ই ছুঁয়ে গিয়েছিল মেসি বাহিনীকে! কিন্তু সেদিন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ যেনো গোলবারের সামনে পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন! কলম্বিয়ার খেলোয়াড়দের নেয়া ৩ টি শট ঠেকিয়ে নিজ দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন সুদক্ষ এই গোলরক্ষক।

কোপা আমেরিকার ফাইনালে ৫ পরিবর্তন নিয়ে দল সাজান আর্জেন্টাইন ফুটবল কোচ স্ক্যালোনি। শুরুর একাদশে ফিরেন ডি মারিয়াও। ফিরেই দলের জন্য প্রায় আড়াই যুগের অধরা ‘চ্যাম্পিয়ন’ শব্দের কারিগর হয়ে উঠেন! খেলার ২২ মিনিটের মাথায় আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলটি আসে এই তারকার পা থেকে। ব্রাজিলিয়ান গোলকিপার এদেরসনকে বোকা বাকিয়ে তাঁর মাথার উপর দিয়ে ব্রাজিলের জালে বল পাঠিয়ে দেন তিনি।

আর্জেন্টিনার গোলের পর পুরো সময় জুড়েই আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ হয়েছে উভয় দলের সীমানায়। তবে ডি মারিয়ার করা গোলের জবাব দিতে পারেন নি ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়েরা। খেলার শেষ বাঁশি বাজতেই বিজয়ের হাসি হাসে ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি আর্জেন্টিনা।

কোপা আমেরিকায় এবার অসাধারণ ফর্মে ছিলেন আর্জেন্টাইন দলের প্রাণ ভোমরা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। এই আসরে তাঁর নামের পাশে ৪ গোল, সঙ্গে ৫ টি এসিস্টের রেকর্ড! জাতীয় দলের হয়ে এই প্রথম তিনি জিতলেন গোল্ডেন বুট, পাশাপাশি হয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরা! সেমিফাইনালে কলম্বিয়ান ফুটবলার ফ্রাঙ্ক ফাবরার মারাত্মক ফাউলের শিকার হয়ে পায়ের গোড়ালি দিয়ে রক্ত ঝরে মেসির।তবুও তিনি অনবদ্যভাবে খেলা চালিয়ে যান!  দলের সেরা খেলোয়াড়টি যখন সর্বোচ্চ স্পৃহা আর ফর্মের তুঙ্গে থাকেন, তখন শিরোপা না এসে যায় কোথায়!

আগামী বছরই কাতারে বসতে যাচ্ছে ফুটবলের বিশ্বকাপ মঞ্চ। তার আগে এই বছরের বড় একটি আসরে চ্যাম্পিয়ন হলো আর্জেন্টিনা। শিরোপার খুব কাছে গিয়েও বারবার শিরোপা হারানোর ভয়টা যেহেতু এবার তাড়ানো গেছে, নিশ্চয়ই ২০২২ বিশ্বকাপ ট্রফিটা নিজেদের ঘরে দেখতে চাইবে কোপা আমেরিকার অপ্রতিরোধ্য চ্যাম্পিয়ন লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here