শক্তিশালী যোগাযোগ নেটওয়ার্কে এগিয়ে যাবে দেশ —প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার মাধ্যমে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। এ দেশকে আর কেউ পেছনে টানতে পারবে না। এর মধ্যেই কিছু কিছু ঘটনা মাঝে মাঝে ঘটছে, যেগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হচ্ছে, যাতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। সেই সঙ্গে প্রচারও চালানো হয়।

গতকাল পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার লেবুখালীতে পায়রা নদীর ওপর নির্মিত ‘পায়রা সেতু’র উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন তিনি। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি এ সেতুর উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান।। একই অনুষ্ঠানে ঢাকা-সিলেট ও সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক পৃথক এসএমভিটি লেনসহ ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা যতই উন্নতি করি, ভালো কাজ করি একটা শ্রেণীই আছে বাংলাদেশের বদনাম করতে তারা ব্যস্ত। এ দেশের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকুক তারা কি তা চায় না? একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাদের একটু কদর বাড়ে। সেজন্য উন্নয়নটা তারা দেখে না, বরং ধ্বংসই সবসময় করতে চায়, এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। এ ব্যাপারে দেশবাসীকে আরো সতর্ক থাকতে হবে।

পায়রা সেতুর নামকরণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বরিশাল ও পটুয়াখালীর সংযোগ সৃষ্টিকারী হবে এ পায়রা সেতু। আর নদীর নামে একটা সেতু হলে নদীটারও একটা পরিচয় পাওয়া যাবে। যে কারণে এ নামই আমি পছন্দ করেছি। আর পায়রা শান্তির প্রতীক। কাজেই এ সেতু হওয়ার পর এ অঞ্চলের মানুষের যে আর্থিক উন্নতি হবে তার ফলে মানুষের মনে একটা শান্তি আসবে এবং মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের ফলে তারা ভালোভাবে বাঁচতে পারবে, সেই সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, পায়রা সেতু নির্মাণের ফলে এখানে পর্যটনের সুযোগ যেভবে বৃদ্ধি পাবে তেমনি পায়রায় যে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ হচ্ছে সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগও সৃষ্টি হবে। আর সমগ্র বাংলাদেশেও একটা যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরি হয়ে যাবে।

সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে। কাজেই এ অঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নতি যত দ্রুত আমরা করতে পারি ততই এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সহায়ক হবে। ফলে এর একটা প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়বে এবং দেশটাকে আমরা আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।

এ দেশের যতটুকু উন্নয়ন সেটা আওয়ামী লীগ সরকারই করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বাংলাদেশে একটি যোগাযোগের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য ১৯৯৬ সালে দায়িত্ব গ্রহণ করেই আওয়ামী লীগ সরকার ধরলা সেতু নির্মাণ করে। যমুনা নদীর ওপর রেল যোগাযোগসহ বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ই করা।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের খণ্ডচিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বরিশাল বিভাগে কেবল সুন্দর রাস্তাই আমরা করিনি এখানে আমাদের ক্যান্টনমেন্ট নির্মাণ হয়েছে। একটি নৌ ঘাঁটি ও বিমান ঘাঁটি হচ্ছে। সেই সঙ্গে কোস্টগার্ডের প্রশিক্ষণের জন্য কোস্টগার্ড ঘাঁটিও এখানেই করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র হচ্ছে, গলাচিপায় বীজ গবেষণা কেন্দ্র করা হয়েছে এবং পায়রা বন্দর করা হয়েছে। এভাবেই পুরো বরিশাল নিয়েই একটি বড় কর্মযজ্ঞ চলছে।

অনুষ্ঠানে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সময় বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য প্রবাসে জনমত গঠন এবং মুক্তিযুদ্ধে লন্ডনপ্রবাসী সিলেটের মানুষের অবদানের কথা স্মরণ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশীরা সবসময় দেশের উন্নয়নে সরকারের পাশে রয়েছেন। যে কারণে আমাদের হূদয়ে তারা একটি বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছেন। তাই সিলেটের রাস্তাঘাটসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি সরকার একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ক্যান্টনমেন্ট করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ আমাদের অর্থনীতিতেও একটি বড় অবদান রাখছে। সেই কথাটাও আমরা সবসময় স্মরণ করি। কাজেই এ রাস্তা হয়ে গেলে যে যোগাযোগটা বাড়বে তাতে দেশেরই বিশেষ উন্নতি হবে এবং আন্তর্জাতিক সড়ক নেটওয়ার্কেও বাংলাদেশ সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়ে যাবে।

তিনি বলেন, এ সড়ককে একটি দৃষ্টিনন্দন আধুনিক সড়ক হিসেবে তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। এ সড়ক দিয়ে যখন লন্ডনপ্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে এসে যাতায়াত করবেন তখন লন্ডনে আছেন না কোথায় আছেন তা চিন্তা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস গণভবন থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে প্রকল্পগুলোর ওপর ভিডিও চিত্র পরিবেশিত হয়। প্রকল্পের উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী পটুয়াখালী ও সিলেট প্রান্তে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা ও জনসাধারণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here