প্রত্যেকদিনই শেয়ারবাজারে নতুন নতুন রেকর্ড

দেশের শেয়ারবাজার আরো এক ধাপ উচ্চতায় উঠেছে। প্রত্যেকদিনই হচ্ছে নতুন নতুন রেকর্ড। চলতি সপ্তাহ তিন কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। তিন কার্যদিবসই শেয়ারবাজারে রেকর্ড হয়েছে। প্রত্যেকদিনই রেকর্ড গড়ছে ভাঙছে। দেশের শেয়ারবাজার গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। আগের দুই কার্যদিবসের মতো মঙ্গলবারও প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ডিএসইতে চার রেকর্ড হয়েছে। এদিন শেয়ারবাজারের সব সূচক বেড়েছে।

একইসঙ্গে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। তবে টাকার পরিমাণে লেনদেন কিছুটা কমলেও এদিনও ডিএসইতে ২৭০০ কোটি টাকার উপরে লেনদেন হয়েছে। এই নিয়ে চলতি সপ্তাহ তিন কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে প্রত্যেক কার্যদিবস ২৭০০ কোটি টাকার উপরে লেনদেন হলো।

এ বিষয়ে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে গতি ফিরে এসছে শেয়ারবাজারে। গড়তে থাকে একের পর এক নতুন নতুন রেকর্ড। সংশ্লিষ্টরা আরও মনে করেন, দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে চাঙ্গা প্রবণতায় এখন দেশের শেয়ারবাজার। প্রতি সপ্তাহেই রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছে। পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহেই ফিরছে বিনিয়োগকারীদের খোয়া যাওয়া হাজার হাজার কোটি টাকা। এদিকে চাঙ্গা বাজারে ব্যাংকের শেয়ারের দর কমায় হতাশায় ব্যাংক খাতের শেয়ারের বিনিয়োগকারীরা।

এ বিষয়ে বিনিয়োগকারী এহতেশামুজ্জামান খান বলেন, চাঙ্গা বাজারে ব্যাংকের শেয়ারের দর কমা হতাশাজনক। তিনি বলেন, অধিকাংশ ব্যাংক মুনাফা করেছে তারপরও ব্যাংকের শেয়ারের দর কমা বিনিয়োগকারীদের জন্য খুবই হতাশাজনক। গত একবছরে আমরা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা দেখলাম ব্যাংকের ঘোষিত লভ্যাংশ অনেক আকর্ষণীয় এবং ব্যাংকের শেয়ার প্রতি ইপিএস অনেক ভাল, তার পর ব্যাংকের শেয়ারের দর সেই হারে বাড়ছে না।

এহতেশামুজ্জামান আরও বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিৎ মন্দ অর্থাৎ দুর্বল মৌলভিত্তিক কোম্পানির শেয়ারের দাম যাতে না বাড়ে সেদিকে নজর রাখা। দুর্বল কোম্পানিগুলো বিনিয়োগকারীদের কখনো ভালো লভ্যাংশ দেয় না।
আরেক বিনিয়োগকারী আজিজ বেপারী বলেন, ব্যাংক আন্ডার ভ্যালুড, এখান থেকে অনেক বাড়ার সুযোগ আছে। আশা করি সামনে ব্যাংকের শেয়ারের দর বাড়বে।

গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২২ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৮৮৪ দশমিক ৬৭ পয়েন্টে। ডিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ৭ দশমিক ১৬ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩ দশমিক ৬১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে এক হাজার ৪৯৪ দশমিক ৪৮ পয়েন্টে এবং দুই হাজার ৪৬৩ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে। ডিএসইর এই তিন সূচকই ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থান করছে। এর আগে এই সূচকগুলোর এই অবস্থানে উঠতে পারেনি। লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭০২ কোটি টাকা। এর আগে কখনও ডিএসইর বাজার মূলধন এমন উচ্চতায় ওঠেনি।

ডিএসইতে ২ হাজার ৭৬২ কোটি ৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের কার্যদিবস থেকে ১২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা কম। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৭৭৪ কোটি ৪ লাখ টাকার।
ডিএসইতে ৩৭৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ২১৩টির কমেছে ১৩১টির অপরিবর্তিত থাকে ৩২টির।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫৯.৪০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫৬ দশমিক ২২ পয়েন্টে। সিএসইতে ৩২৫টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭৬টির দর বেড়েছে, কমেছে ১২৪টির আর ২৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১১৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here