নিগার-রুমানাদের দুরন্ত সূচনা

সিলেটে চলমান এশিয়া কাপে দুরন্ত সূচনা করেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। গতকাল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে হারিয়েছে থাইল্যান্ডকে। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮২ রানে অলআউট হয়ে যায় থাইল্যান্ড। জবাবে ১১.৪ ওভারে এক উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। ব্যাটিং ও বোলিংÑ দুই বিভাগেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে নিগার সুলতানার দল। ৩০ বলে ৪৯ রান করা শামীমা সুলতানা ম্যাচসেরার পুরস্কার পান। আগামী ৩ অক্টোবর নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ খেলবে পাকিস্তানের বিপক্ষে।

বিশ^কাপ বাছাই পর্বে সম্প্রতি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ নারী দল। এশিয়া কাপে শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে খেলছে স্বাগতিকরা। তাদের শুরুটাও দুর্দান্ত হলো। ফেভারিটের মতোই যাত্রা করেছে মেয়েরা। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি গ্রাউন্ডে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে থাইল্যান্ড। দলীয় ১৬ রানের মধ্যে থাইল্যান্ডের ২ উইকেট তুলে নেন বাংলাদেশের দুই বোলার সানজিদা আকতার মেঘলা ও সোহেলি আকতার। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৩৮ রান তুলে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন থাইল্যান্ডের দুই ব্যাটার পানিতা মায়া-নাত্তাকানচনথাম। এর পর থাইল্যান্ডের ব্যাটারদের চেপে ধরেন বাংলাদেশের বোলাররা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নেন রুমানা-নাহিদা-সোহেলি-মেঘলারা। স্বাগতিকদের বোলিং তোপে ১৯.৪ ওভারে ৮২ রানে গুটিয়ে যায় থাইল্যান্ডের ইনিংস। দলের পক্ষে চার ব্যাটার ব্যক্তিগত সংগ্রহ দুই অঙ্কের ঘরে নিয়ে যেতে পারেননি। তাদের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন মায়া। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট পান রুমানা। এজন্য ৩ ওভারে ৯ রান দেন তিনি। নাহিদা-মেঘলা ১১ রানে ও সোহেলি ১৮ রানে ২টি করে উইকেট নেন। ৮৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার শামিমা সুলতানা ও ফারজানা হক। পাওয়ার প্লের সুবিধা কাজে লাগান তারা। আগ্রাসী ব্যাটিং করেন শামিমা। ফলে ৬ ওভারেই স্কোর বোর্ডে ৫২ রান তোলে বাংলাদেশ। বাউন্ডারির ফুলঝুরি ছড়ান শামিমা। নবম ওভারের প্রথম বলে দলীয় ৬৯ রানে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটিতে ফাটল ধরে। মাত্র এক রানের জন্য হাফ সেঞ্চুরি করতে পারেননি ওপেনার শামিমা। বোল্ড হওয়ার আগে ১০টি চারের সাহায্যে ৪৯ রান করেন তিনি। শামিমা সাজঘরে ফেরার পর জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল ১৪ রান। এ রান তুলতে তেমন বেগ পেতে হয়নি তাদের। ফারজানা ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ১২তম ওভারের চতুর্থ বলে লং-অন দিয়ে ছক্কা মেরে ৫০ বল হাতে রেখেই দলের জয় নিশ্চিত করেন নিগার। ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৯ বলে ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন ফারজানা। ১১ বলে ১টি ছক্কার সাহায্যে অপরাজিত ১০ রান করেন নিগার। সামনের ম্যাচেও তাদের এই জয়ের ছন্দ ধরে রাখার প্রত্যয়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here