খুলেছে আবাসিক হল, প্রাণবন্ত ঢাবি

0
36

মোহাম্মদ মাকসুদুল হাসান ভূঁইয়া রাহুলঃ
প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। শিক্ষার্থীদের পদচারণায় সর্বদা প্রাণবন্ত থাকা এই ক্যাম্পাস করোনা মহামারীর আগ্রাসনে গত দেড় বছর ছিল নিস্তব্ধ! তবে আশার খবর হলো, করোনার প্রকোপ বেশ কমে আসায় আজ (০৫ অক্টোবর, ২০২১) খুলে দেয়া হয়েছে ঢাবির হলগুলো।

এর আগে গত মাসে (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাবির কেন্দ্রীয় ও আবাসিক হলগুলোর গ্রন্থাগার ও বিভাগীয় সেমিনার কক্ষগুলোও শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। আপাতত শুধু অনার্স ৪র্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরাই হলে থাকতে পারবেন এবং গ্রন্থাগার-বিভাগীয় সেমিনার কক্ষগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। তবে আগামী ১০ অক্টোবর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য হল-গ্রন্থাগার-সেমিনার কক্ষ উন্মুক্ত থাকবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম চালু হবে বলে জানিয়েছে প্রভোস্ট কমিটি।

দীর্ঘদিন শিক্ষার্থী শূন্য আবাসিক হলগুলোতে যথেষ্টই ধুলো-ময়লা জমেছিল। শিক্ষার্থীদের হলে উঠা উপলক্ষ্যে হলগুলোকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেছেন হলের কর্মচারীরা। এছাড়া ডেঙ্গু থেকে যেনো শিক্ষার্থীরা সুরক্ষিত থাকে, সেজন্য হলের ঝোপঝাড়ও কাটা হয়। এদিকে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানোর জন্য প্রতিটি হলেই বিশেষ আয়োজন করেছিল কর্তৃপক্ষ। হলে আগত শিক্ষার্থীদের ফুল, মাস্ক ও চকোলেট উপহার দিয়ে স্বাগত জানানো হয় এবং প্রত্যেককে স্বাস্থ্য নির্দেশকা লিফলেট দেয়া হয়। এদিন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বিভিন্ন হল পরিদর্শন করেন।

শিক্ষার্থীরা যেনো হলে ঢুকার পূর্বে প্রতিবার হাত ধুতে ও নিজেদের স্যানিটাইজেশন করতে পারেন, সেজন্য হলের প্রবেশমুখে দৃষ্টিনন্দন বেসিন বসানো হয়েছে। ঢাবির ছাত্রত্বের বৈধ পরিচয়পত্র ও অন্তত করোনার এক ডোজ টিকা নিয়েছেন এমন ছাড়পত্র দেখিয়ে এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে হলে থাকা ও গ্রন্থাগার-সেমিনার কক্ষ ব্যবহার করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা।

আবাসিক-অনাবাসিক ৪র্থ বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে গ্রন্থাগার ও সেমিনার কক্ষগুলো। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের প্রবেশপথে তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র ও হ্যান্ড স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে বাইরের কোনো বইপত্র নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিবহনকারী বাসগুলোও এতদিন বন্ধ ছিল। তবে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সীমিত পরিসরে চলাচল করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস।

এদিকে গতকাল (০৪ অক্টোবর) ঢাবির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য চালু হয়েছে করোনা টিকার বিশেষ অস্থায়ী কেন্দ্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থাপিত এই কেন্দ্রে আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র দেখিয়ে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক নিবন্ধনের মাধ্যমে টিকার প্রথম ডোজ নিতে পারবেন। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাভুক্ত টিকাকেন্দ্রে (ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট) নিবন্ধন করা সত্ত্বেও যাঁরা এখনো টিকা নিতে পারেননি, তাঁরা এনআইডি, ঢাবি ছাত্রত্বের পরিচয়পত্র এবং টিকা কার্ড দেখিয়ে অস্থায়ী টিকাকেন্দ্র থেকে প্রথম ডোজ টিকা নিতে পারবেন। ১ নভেম্বর থেকে দেওয়া শুরু হবে করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ। তবে যাঁরা ডিএসসিসির আওতাভুক্ত কোনো টিকাকেন্দ্র থেকে ইতোমধ্যে এক ডোজ টিকা নিয়েছেন, তাঁরা মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা আসা সাপেক্ষে একই টিকার (সিনোফার্ম) দ্বিতীয় ডোজ এই অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে নিতে পারবেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের মার্চ মাসের দিকে দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সেসময় বন্ধ ঘোষণা করা হয়, বন্ধ হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অবশেষে আজ আবাসিক হলগুলো এবং গত ২৬ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ও হলগুলোর গ্রন্থাগার এবং বিভাগীয় সেমিনার কক্ষগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে প্রাণবন্ত হলো ঢাবি! সুদীর্ঘ দেড় বছর পর গ্রন্থাগার, সেমিনার কক্ষ ও আবাসিক হলগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার বিষয়টিতে যেনো প্রাণ ফিরে পেলো এতদিনের নিস্তব্ধ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here