‘ক্লাইমেট হিরো’ পুরস্কার পেলেন ফারজানা সালাম

0
22

মোহাম্মদ মাকসুদুল হাসান ভূঁইয়া রাহুলঃ
বৃক্ষ প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য এক অংশ। পৃথিবীর প্রত্যেক প্রাণী প্রতি সেকেন্ডেই বৃক্ষরাজির মাধ্যমে উপকৃত হয়। তবে মানব বসতির আধিক্যের কারণে বৃক্ষের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বৃক্ষ কমে যাওয়াটা প্রকৃতি, মানুষ এবং পৃথিবীর অন্যান্য প্রাণের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, এমনকি অস্তিত্ব সংকট দেখা দিতে গোটা প্রাণীকুলের। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে বড় ধরণের প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলোর অন্যতম প্রধান কারণ বৃক্ষের সংখ্যা হ্রাস।

বৃক্ষ নিধনের কারণে পরিবেশ-জলবায়ুর বিপর্যয় ও প্রাণীকুলের অস্তিত্ব সংকট রোধে মানুষকে বৃক্ষরোপণের দিকে উৎসাহিত করে আসছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিবেশভিত্তিক সংগঠন সহ সরকারি-বেসরকারি নানান প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশের স্বনামধন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’র শিক্ষার্থীদের সংগঠন ডব্লিউইউবিয়ান স্টুডেন্টস সোসাইটি (ডব্লিউইউবিএসএস) ‘রোপন করি বেশি গাছ, সুরক্ষিত হোক বসবাস’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বৃক্ষরোপণে মানুষকে উৎসাহিত করতে ‘ক্লাইমেট হিরো এওয়ার্ড-২০২১‘ এর আয়োজন করে।

প্রশংসিত এই পুরস্কার আয়োজন সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। বৃক্ষপ্রেমীরা তাঁদের করা বৃক্ষরোপণের ছবি-ভিডিও-বর্ণনা আয়োজক কমিটির কাছে পাঠান। যাচাই-বাছাই শেষে ৩ জনকে ‘ক্লাইমেট হিরো’ হিসেবে পুরষ্কৃত করে ডব্লিউইউবিএসএস।

পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থী আম্বিয়া আক্তার, শর্মিলা রানী দাস এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ’র শিক্ষার্থী মো. নাঈমুল হাসান দূর্জয়ের মা কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার পশ্চিম চন্দ্রগ্রামের বাসিন্দা ফারজানা সালাম

ফারজানা সালাম পেশায় একজন গৃহিণী। তিনি ও তাঁর স্বামী ব্যবসায়ী মো. আবদুস সালাম ভূঁইয়া মিলে তাঁদের বাড়ির পেছনের জমিতে নানারকম ফল, শাকসবজি ও অন্যান্য বৃক্ষরোপণ করেন। এসব ফলজ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষ যেমন উনাদের দৈনন্দিন খাবার এবং অন্যান্য কাজের চাহিদা মেটাচ্ছে, তেমনি পরিবেশেরও উপকার করছে। তাঁদের এই বৃক্ষরোপণের বিষয়টির স্বীকৃতি স্বরূপ ডব্লিউইউবিএসএস কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘ক্লাইমেট হিরো এওয়ার্ড-২০২১’ পেলেন মিসেস সালাম।

ব্যক্তিগত জীবনে ফারজানা সালাম ৪ সন্তানের জননী। এই প্রতিবেদক উনার বড় সন্তান, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করে বর্তমানে সংবাদকর্মী হিসেবে কর্মরত আছেন। সালাম দম্পতির মেজো ছেলে তারিকুল হাসান শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে বিএসসি করার পর স্কলারশিপ নিয়ে বর্তমানে ইউরোপে এম.এস.সি করছেন, ছোটো ছেলে মো. নাঈমুল হাসান দূর্জয় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’র বিবিএ’র শিক্ষার্থী, পাশাপাশি সংবাদকর্মী হিসেবে কাজ করছেন এবং একমাত্র মেয়ে মাস্তুরা হাসান তোয়া খ্যাতনামা আফতাব উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী।

বৃক্ষরোপণের স্বীকৃতিস্বরুপ ‘ক্লাইমেট হিরো’ পুরস্কার পেয়ে ব্যাপক আনন্দিত ফারজানা সালাম ও তাঁর পরিবার। ডব্লিউইউবিএসএস’র আয়োজিত চমৎকার এই উদ্যোগের জন্য সংগঠনটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাঁরা।

ফারজানা সালাম বলেন, ‘পরিবেশের অনবদ্য উপাদান হলো বৃক্ষ। তবে দিন দিন এগুলো অনেক কমে যাচ্ছে। যেকারণে জলবায়ুর উপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই বেশি বেশি গাছ লাগানো খুব প্রয়োজন। বৃক্ষরোপন আমাদের খুব পছন্দের একটি কাজ। তাই বাড়ির পেছনে খালি জায়গায় আমি, আমার স্বামী ও পরিবারের অন্যান্যরা মিলে নানান গাছ লাগিয়েছি। এগুলোর ফল বা সবজি আমাদের খাবারের কাজে লাগছে, পাশাপাশি পরিবেশেরও উপকার হচ্ছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এসব গাছের উপকারিতা পাবে।’

‘ক্লাইমেট হিরো এওয়ার্ড-২০২১’ আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ডব্লিউইউবিয়ান স্টুডেন্টস সোসাইটির ক্লাইমেট হিরো পুরস্কার আয়োজনটি খুবই দারুণ এক উদ্যোগ। এর ফলে অনেকেই বৃক্ষরোপণের প্রতি আরো উৎসাহিত হবে। পুরস্কার পেয়েছি ভালো লাগছে খুব। তাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা রইলো। ‘

বৃক্ষরোপণের উপকারিতার বিষয়ে মিসেস সালাম বলেন, ‘গাছগুলো দেখলে আমাদের বেশ শান্তি লাগে। প্রতিদিনই আমরা এগুলোর পরিচর্যা করি। গাছ পরিবেশের জন্য, আমাদের জন্য অপরিহার্য। এগুলো আমাদের উপকারে আসে, আমাদেরও উচিত নিয়মিত বৃক্ষরোপণ করা।’

বৃক্ষ জীববৈচিত্র্যের গুরত্বপূর্ণ অংশ। বৃক্ষের সংখ্যা ক্রমহ্রাসমান হওয়া ভূমন্ডলের জন্য মোটেও স্বস্তিদায়ক কোনো বিষয় নয়। প্রকৃতিতে যত বেশি গাছ থাকবে, পৃথিবীবাসীর জন্য সেটা ততই মঙ্গল। বৃক্ষরোপণের প্রতি মানুষকে উৎসাহিত ও পুরস্কৃত করার ডব্লিউইউবিয়ান স্টুডেন্টস সোসাইটি আয়োজিত ‘ক্লাইমেট হিরো এওয়ার্ড-২০২১’ নিঃসন্দেহে অনন্য এক উদ্যোগ। জলবায়ু ও পরিবেশ রক্ষায় সবাই নিজ নিজ উদ্যোগে বৃক্ষরোপন করবেন এমনটাই প্রত্যাশা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here