‘কিশোরগঞ্জ মেহমানখানা’য় স্বাগতম

0
29

মাকসুদুল হাসান রাহুলঃ
রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন অজস্র মানুষের আনাগোনা। কেউ আসে জীবিকার সন্ধানে, কেউবা বিশেষ কোনো কাজে। এ শহরের গুরুত্ব যেনো কমবার নয় কখনো! এজন্যই সারা দেশের মানুষদের কাছে রাজধানী বরাবরই বিশেষ৷ তবে যারা কয়েকদিনের জন্য ঢাকায় আসেন, তাদের মাঝেমধ্যেই থাকার জায়গা নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়, বিশেষ করে যাদের আত্মীয় বা পরিচিত কেউ থাকেন না। তাদের শেষ ভরসা হয় আবাসিক হোটেল, যেখানে টাকা দিয়ে থাকতে হয়।

চাকরি ও চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কয়েকদিনের জন্য ঢাকায় আসা কিশোরগঞ্জবাসীরা যেনো আবাসান সঙ্কটে না পড়েন এবং বিনা খরচে থাকতে পারেন, এজন্য দারুণ এক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে৷ উদ্যোগের ফলস্বরূপ রাজধানী ঢাকার গ্রীনরোডে (কমফোর্ট হাসপাতাল সংলগ্ন) গড়ে উঠেছে ‘কিশোরগঞ্জ মেহমানখানা’।

আজ মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর, ২০২১) এই মেহমানাখানার যাত্রা শুরু হয়। এখানে প্রতিদিন কিশোরগঞ্জ থেকে আসা কিছু মানুষ থাকতে পারবেন। তবে এর জন্য গুণতে হবে না কোনো অর্থ। নিজেদের জন্মস্থানের মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালোবাসা থেকে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহ হুসাইন পাভেল, স্বনির্ভর বাংলাদেশ’র আহ্বায়ক ও চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘সিমপ্লেক্স ইন্টার্ন্যাশনাল’র কর্ণধার রাজীব সারোয়ার, জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মাহমুদুল হাসান রানা সহ দেশ-বিদেশে অবস্থানরত জেলাটির মহৎ হৃদয়ের কয়েকজন ব্যক্তিত্ব। মেহমানখানাটির অর্থ-ব্যবস্থাপক ও নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বে আছেন মাহমুদুল হাসান রানা।

কিশোরগঞ্জ মেহমানখানায় থাকার পূর্বে কিছু নিয়ম-কানুন অনুসরণ করতে হবে।

যারা থাকতে পারবেনঃ ১) চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসা কিশোরগঞ্জবাসী।
২) চাকরির ইন্টারভিউ দিতে আসা কিশোরগঞ্জের মানুষ।

মেহমানখানায় থাকার জন্য যেসব কাগজ দেখাতে হবেঃ ১) রোগীর ক্ষেত্রেঃ ক) পূর্বের প্রেসক্রিপশন, খ) জাতীয় পরিচয়পত্র (ক্ষেত্রবিশেষে কোন পরিচিত ব্যক্তির নাম), গ) ঢাকায় যে ডাক্তারকে দেখাবেন উনার নাম এবং তারিখ।
২) ইন্টারভিউয়ের ক্ষেত্রেঃ ক) ইন্টারভিউ কার্ড, খ) জাতীয় পরিচয়পত্র (ক্ষেত্রবিশেষে কোন পরিচিত ব্যক্তির নাম)।

রোগীর সাথে কয়জন থাকতে পারবেনঃ ১জন রোগীর সাথে সর্বোচ্চ ২জন এটেনডেন্ট থাকতে পারবেন। তবে অতি জরুরী না হলে অনুগ্রহপূর্বক ১জন এটেনডেন্ট সাথে রাখবেন। এতে অন্য রোগীদের থাকার সুযোগ বাড়বে।

কয়দিন থাকা যাবেঃ সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ দিন।

মহিলা অতিথির ক্ষেত্রেঃ বাবা-মা, ভাই-বোন বা সন্তানদের মধ্যে কোন একজনকে অবশ্যই সাথে থাকতে হবে।

বিশেষ নোটঃ ১) মেহমানখানায় আসার পূর্বে নাম এবং আসার তারিখ লিখে মেসেজ পাঠাতে হবে। মেসেজের প্রেক্ষিতে দায়িত্বরতরা ফোন করে মেসেজ প্রেরণকারীকে আমন্ত্রণ পাঠাবে। মেহমানখানায় থাকার জন্য আমন্ত্রণ মেসেজ অত্যাবশ্যক।
২) আপাতত ৬ মাসের পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে মেহমানখানা পরিচালিত হবে। সেবাটি মানুষের কেমন উপকারে আসছে এবং মেহমানখানার কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে একে পরিচালনা করতে পারছে কিনা, তার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

মেহমানখানা সংক্রান্ত আপডেটের জন্য ‘সুখী কিশোরগঞ্জ’ ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত থাকার জন্য জেলাটির বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হয়েছে।

‘কিশোরগঞ্জ মেহমানখানা’র সমন্বয়ক রাজীব সারোয়ার বলেন, কিশোরগঞ্জ আমাদের জন্মস্থান। তাই এই জেলা ও মানুষের প্রতি আমার দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চটুকু আমরা করবো। মেহমানখানার উদ্যোগের পরিসরটা আপাতত ক্ষুদ্র, তবে মেহমানদের স্বাচ্ছন্দ্য আর স্বস্তি প্রদানে আমাদের স্বেচ্ছাসেবকগণের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা থাকবে। এই মেহমানখানায় আগত কিশোরগঞ্জবাসীদের স্বাগতম।

তিনি জানান, চাকরি ও চিকিৎসাসেবা নিতে ঢাকায় আসা কিশোরগঞ্জবাসীরা ২/৩ দিন মেহমানখানায় বিনা খরচে থাকতে পারবেন। আগামী ৬ মাসের জন্য সীমিত আকারের এই টেস্ট প্রজেক্টটি আমরা শুরু করেছি। এর ফলাফল দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, Mighty oaks from little acorns grow, ইংরেজি এই প্রবাদের মতো মেহমানখানা’র ক্ষুদ্র বীজ একদিন বৃহৎ বৃক্ষ হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। ইন শা আল্লাহ আমরা সবাই মিলে এই বিশ্বাসকে সত্যি করবো। মেহমানখানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে যাঁরা পাশে আছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সমন্বয়ক রাজীব সারোয়ার।

চাকরি পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে ঢাকায় আসা কিশোরগঞ্জ জেলার মানুষদের জন্য চালু হওয়া ‘কিশোরগঞ্জ মেহমানখানা’ দারুণ এক সেবামূলক উদ্যোগ। রাজধানীতে আসা জেলাটির বাসিন্দারা এই সেবায় উপকৃত হবেন এবং এমন মহতী সেবা চালু থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here